1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্পে সুফল মেলেনি”বিল ডাকাতিয়ায় পানির নিচে সড়ক অনিশ্চয়তায় হাজারো মানুষ

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

কন্ঠ রিপোর্ট।। খুলনার ডুমুরিয়ায় বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে জলাবদ্ধতা এখন দুর্যোগের নাম। টানা চার বছর ধরে পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন, উন্নয়ন প্রকল্প ও নানা প্রতিশ্রুতির পরও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি; বরং বিল ডাকাতিয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন।

বারানসী থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত প্রধান সড়ক বছরের একটি বড় সময় পানির নিচে থাকছে। ফলে মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন ডিঙি নৌকা। জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে খালপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ বছর বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। অনেক পরিবার নিজ খরচে ভিটা উঁচু করায় বাড়িঘর প্লাবিত হয়নি, কিন্তু তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তা। খালের ওপর নির্মিত কয়েকটি নিচু কালভার্টের কারণে নৌযান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ পথ নৌকায় পাড়ি দেওয়াও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।

জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বিল ডাকাতিয়ায় কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মেলেনি।

স্থানীয়দের দাবি, আগে খনন করা খাল পুনরায় খননের পরিবর্তে মূল নদীগুলো খনন করা হলে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা হতো। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অনিয়মের কারণে প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি প্রকল্পের অব্যবহৃত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হয়েছে।

এদিকে বারানসী-কৃষ্ণনগর সড়কের কার্পেটিং কাজ দুই বছরেও শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। স্থানীয়দের মতে, শুধু সড়ক নির্মাণ নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাস্তার উচ্চতা অন্তত দুই ফুট বাড়ানো জরুরি। কারণ বর্ষার মাঝামাঝি সময়েই সড়কটি পানির নিচে চলে যায় এবং জলাবদ্ধতা আগামী ফাল্গুন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল সরকার বলেন, ভোটের আগে সবাই রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। বিল ডাকাতিয়াকে নিয়ে শুধু রাজনীতি হচ্ছে।

বারানসী গ্রামের সুব্রত মণ্ডল বলেন, বছরের পর বছর একই অবস্থা। আমরা যে কী দুর্ভোগে আছি, তা কেউ বুঝবে না। তুষার মণ্ডল বলেন, এভাবে পানিবন্দি হয়ে থাকার চেয়ে সরকার যদি অন্য কোথাও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করত, তাহলে হয়তো মুক্তি পেতাম।

বিধান চন্দ্র রায় জানান, গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে এক লাখ টাকার বেশি খরচ করে রাস্তায় বালি ফেলেছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যও রাস্তা উঁচু করার আশ্বাস দিয়েছেন।

চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার অভিশাপে জর্জরিত বিল ডাকাতিয়ার মানুষের প্রশ্ন-কোটি টাকার প্রকল্পের পরও যদি পানি না নামে, তাহলে এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.