1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

নষ্ট যন্ত্র, করিডোরে রোগী: খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসাসেবার করুণ দশা

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার।। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো মানুষের কম খরচে উন্নত চিকিৎসার প্রধান ভরসা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অথচ নষ্ট চিকিৎসা-যন্ত্র, প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও দালালদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা।প্রায় ১৫ বছর আগে হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার সময় স্থাপন করা যন্ত্রপাতির মধ্যে অন্তত ৩৫৪টি এখন পুরোপুরি অকেজো। পরীক্ষা করা ১১৫টি বড় যন্ত্রের ৮৫টিই নষ্ট। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর জন্য কার্যকর রয়েছে মাত্র ৩০টি বড় যন্ত্র।নষ্ট যন্ত্রের তালিকায় রয়েছে ছয়টির মধ্যে তিনটি ইসিজি, ১৬টি ফটোথেরাপি ইউনিটের সবগুলো, দুটি সিটি স্ক্যানারের একটি, একটি ৫০০ এমএ এক্স-রে ও দুটি পোর্টেবল এক্স-রে। এছাড়া চারটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, নয়টি অ্যানাস্থেসিয়া ইউনিট, ২০টি অপারেশন টেবিল, ছয়টি অপারেশন থিয়েটার লাইট, একটি ডায়ালাইসিস মেশিন, একটি রিপ্রসেসর, ১২টি হৃদরোগের মনিটর এবং তিনটি আইসিইউ বেড অকেজো।সচল যন্ত্রও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বন্ধ। এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় রেডিওলজি বিভাগের পাঁচটি এক্স-রে মেশিনই পড়ে থাকে। ২০২০ সালে কম খরচে হরমোন পরীক্ষার জন্য আনা ‘অটো অ্যানালাইজার’ও রিএজেন্টের অভাবে চালুর পর থেকেই অব্যবহৃত। অত্যাধুনিক দুটি সিটি স্ক্যানার থাকলেও রোগীরা এর সুফল পাচ্ছেন না।গত ২০ মে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আফসোস করে বলেন, খুলনায় ১৮ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন অব্যবহৃত পড়ে আছে। একই দিন ভোরে পুরোনো আইসিইউর পাশের একটি স্টোররুমে আগুনে একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কিছু মূল্যবান চিকিৎসা-সরঞ্জাম পুড়ে যায়।হাসপাতালের উপপরিচালক সুজাত আহমেদ জানান, নষ্ট ও অকেজো যন্ত্রপাতির তালিকা তৈরি করে প্রতি মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয় এবং দ্রুত মেরামতের অনুরোধ জানানো হয়।শয্যার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী
১৯৮৯ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে চালু হওয়া হাসপাতালটি ২০০৮ সালে ৫০০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে শত শত রোগীকে বারান্দার মেঝে ও সিঁড়িতে থাকতে হয়। ৪০ জনের জন্য তৈরি ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে ২০০ জনেরও বেশি রোগী।২০২৩ সালে হাসপাতালটি ১ হাজার শয্যায় উন্নীত ও নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি।রয়েছে নিম্নমানের খাবার ও দুর্নীতির অভিযোগও। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে পরিবর্তন সামান্যই।
দালালদের দৌরাত্ম্য : অসহায় রোগীদের ঘিরে হাসপাতালের ভেতর-বাইরে সক্রিয় দালালচক্র। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান পায়ের ব্যথার চিকিৎসা নিতে এসে কম খরচের প্রলোভনে বাইরের একটি বেসরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার শিকার হন। রোগীদের অভিযোগ, টিকিটের লাইন থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত দালালদের আনাগোনা রয়েছে। র‌্যাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।নাগরিক নেতা মো. আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী বেশি অর্থের আশায় দালালদের মদদ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক কাজী মো. আইনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।সংকট শুধু খুলনায় নয় : খুলনা মেডিকেলের সংকট দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বৃহত্তর দুরবস্থারই প্রতিচ্ছবি। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) জুলাই ২০২৬-এর গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ৬৫ শতাংশ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও গত এক বছরে মাত্র ২৫ শতাংশ হাসপাতাল নিয়মিত তা দিতে পেরেছে। জেলা হাসপাতালে এ হার ৩৩ শতাংশ, উপজেলা হাসপাতালে ১৭ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ শতাংশ।গবেষণায় আরও দেখা যায়, সেবা ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ অকেজো যন্ত্রপাতি—৭৯ শতাংশ ঘটনা। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে ১৪ শতাংশ এবং দক্ষ জনবলের অভাবে ৭ শতাংশ সেবা ব্যাহত হয়েছে।সব মিলিয়ে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লেও যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.