
কন্ঠ প্রতিবেদক।।খুলনার রূপসা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক প্রায় দেড় যুগ ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দ ও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুই পাশে ১৮টি হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা, বরফকল, বালুর বেডসহ বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন ভারী যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কার্যকর সংস্কার হয়নি। এতে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাহরা সুপার স্টোরের নির্বাহী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, বহু বছর ধরে সড়কটির কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিন মাহমুদ বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
মাছ কোম্পানির শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিংড়ি শিল্পের অনেক প্রতিষ্ঠান এ সড়কের পাশে অবস্থিত। দ্রুত সড়ক সংস্কার হলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সবাই উপকৃত হবেন।
এ বিষয়ে নৈহাটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইলিয়াজ হোসেন জানান, ড্রেনেজ সমস্যার কারণে বৃষ্টির পানি জমে সড়কের ক্ষতি বাড়ছে। একই সঙ্গে ভারী লোডের ট্রাকও রাস্তা নষ্ট করছে। প্রাথমিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রূপসা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদা বলেন, সড়কটি আম্পান প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। জুন মাসে জরুরি সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রাক্কলন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে প্রাথমিকভাবে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হবে।