
ওয়াহিদ মুরাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।।খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সেনহাটি গ্রামে বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। শনিবার (৬ জুন) সকালে সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশিং কমিটির সদস্য সচিব, সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী মিন্টুর নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।জানা যায়, সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদের মোড় থেকে লিচুতলা পর্যন্ত এলাকার প্রধান ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে ছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি হয়ে আশপাশের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছিল।এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এলাকাবাসী।স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই ড্রেন উপচে পানি ঘরবাড়িতে প্রবেশ করে। জমে থাকা নোংরা পানির কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পায় এবং ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের খেলাধুলা ও চলাচলেও সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি।এ অবস্থায় কোনো ধরনের সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষা না করে স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ হাতে কোদাল, বেলচা ও ঝুড়ি নিয়ে ড্রেন থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণে অংশ নেন। এ সময় এলাকার তরুণ ও সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।এ কার্যক্রমের নেতৃত্বদানকারী মোহাম্মদ আলী মিন্টু বলেন, “বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ড্রেন পরিষ্কার না করলে পুরো এলাকা জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় প্রতি বছরই তাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক স্থানে ড্রেন ভেঙে গেছে, আবার কোথাও কোথাও ড্রেন সংকীর্ণ হয়ে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।এলাকাবাসীর দাবি, সেনহাটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে শুধুমাত্র স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
—