1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

খুলনা সাতক্ষীরায় মায়ের হাতে পাঁচ দিনের নব’জা’তককে হ/ত্যা!

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫

 

ক্রাইম রিপোর্টার।।খুলনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় তৃতীয়বার কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় মাত্র পাঁচ দিন বয়সের এক নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন এক মা।মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাজিরহাট হাইস্কুলের বলফিল্ড সংলগ্ন এলাকায়।গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী শারমিন আক্তার (২৫) কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের মেয়ে। তার স্বামী ইব্রাহিম খলিল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকী এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, শারমিনের আগেই দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তৃতীয়বারও কন্যা সন্তান হওয়ায় পরিবার থেকে নানা কটূ কথা, তিরস্কার ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। একপর্যায়ে মানসিক চাপে পড়ে পাশের সরকারি খালে নবজাতককে ফেলে দেন।

কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকেলে শারমিন নবজাতককে নিয়ে বাইরে বের হন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি জানান, শিশু নিখোঁজ। পরে স্বামী ইব্রাহিম খলিল থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলে পুলিশের সন্দেহ হয়। তদন্তে গিয়ে পুলিশ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে খালের কচুরিপানার নিচ থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও জানান, নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির দাদি খাদিজা খাতুন কলারোয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার শারমিন আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

একুশ শতকের বাংলাদেশে এখনো এমন ঘটনাই যেন সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। যেখানে কন্যা সন্তান দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে—রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, বিজ্ঞান থেকে খেলাধুলা—সবক্ষেত্রেই নারীরা আজ শক্ত অবস্থানে। অথচ কোনো এক প্রান্তে ‘মেয়ে’ হওয়াই আজও কারো জন্য মৃত্যুর কারণ!

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পুত্রসন্তানপ্রাধান্য ও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাবের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে চলেছে। এটি শুধু একটি পারিবারিক অপরাধ নয়—এটি একটি সামাজিক ব্যর্থতা, যেখানে নারী এখনো সম্মানের নয়, দায়ের প্রতীক হয়ে আছে অনেক পরিবারে।

কন্যা সন্তান অভিশাপ নয়—আশীর্বাদ। যে সমাজ এই সত্যটি বুঝবে না, সেই সমাজ বারবার শারমিনদের জন্ম দেবে। আজ দরকার সচেতনতা, সহানুভূতি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কারণ—একটি মা যেন আর কখনো ‘মেয়ে সন্তান’ জন্মানোর অপরাধে নিজের সন্তানকেই না হত্যা করে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.