1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

মেট্রোপলিটন কলেজ খুলনার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ দিবাকর বাওয়ালির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

খুলনা প্রতিনিধি।।মেট্রোপলিটন কলেজ খুলনার সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ দিবাকর বাওয়ালির নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর মিলনায়তনে কলেজের গভর্নিং বডি (এডহক কমিটি) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ পারভেজ।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর দিবাকর বাওয়ালি আত্মগোপনে চলে যান এবং একই মাসে পরিবারসহ ভারতে চলে যান। ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই দেশত্যাগ করে তিনি কলেজে আর যোগদান করেননি। এ ছাড়া তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি উপেক্ষা করে সহকারী অধ্যাপক এস এম রওনাকুজ্জামানকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে যান। একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও কোনো জবাব দেননি তিনি। ফলে ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে দিবাকর বাওয়ালি কলেজের আয় ব্যাংকে জমা না করে আত্মসাত করেছেন। শুধু ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি থেকেই তিনি আত্মসাত করেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৩৪ টাকা। ২০১৮ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অফিস সহায়ক, ল্যাব এসিস্ট্যান্ট ও অফিস সহকারী পদে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অসংখ্য ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কলেজের এক শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের লিখিত স্বীকারোক্তিতেও তার এই নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে, যেখানে উল্লেখ আছে ৩৩ জনের কাছ থেকে এক কোটিরও বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আদালতে চলমান।এছাড়া দিবাকর বাওয়ালি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বরখাস্তের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন তুলে তাকে দিতে বাধ্য করেছেন। তিনি কিস্তি পরিশোধ না করায় বর্তমানে বহু শিক্ষক-কর্মচারী মামলায় জড়িয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।২০২৫ সালের জুলাইয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিম কলেজে পরিদর্শন করতে এলে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কেসিসির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর, আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্য, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের তালা ভেঙে দেখা যায়, তিনি আগেই শিক্ষক হাজিরা খাতা, রেজুলেশন খাতা, বিল-ভাউচারসহ বহু নথি সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ মূল্যবান সরঞ্জামও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।গভর্নিং বডির সভাপতি আরও অভিযোগ করেন, দিবাকর বাওয়ালি বর্তমানে ভারতে বসেও সহযোগীদের মাধ্যমে কলেজ ও কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এবং কলেজের সভাপতি ও শিক্ষকদের নামে প্রায় ২০টি মামলা দায়ের করেছেন। তার সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধা কলেজের বহিস্কৃত অধ্যক্ষ এস.এম. মোমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন কাজ করছেন। তারা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কলেজের দাতা সদস্য সাজানোরও চেষ্টা করেছেন, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান এডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো নিয়োগ কার্যক্রম চালায়নি। বরং দিবাকর বাওয়ালি দীর্ঘদিন অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন।
সবশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কলেজের সভাপতি বলেন, “দিবাকর বাওয়ালির অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। আমরা আশা করি গণমাধ্যম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই দুর্নীতিবাজের মুখোশ উন্মোচন করবে এবং কলেজের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলেজের হিতৈষী সদস্য ইয়াসীন আরাফাত রুমী, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: তাইফুজ্জামান, শিক্ষক প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান শামীম, শিক্ষক এফ এম মিজানুর রহমান, শেখ মইনুদ্দীন, মাহাবুবুর রহমান মোড়ল, শফিকুল ইসলাম খান, হাবীবুল্লা আব্বাসী, শরিফুল আলম, আঃ সালাম পাইক, এস এম আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বৃন্দ।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.