1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

ফুলবাড়িগেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এর ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫

 

আতিকুর রহমান।।খুলনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এর কতিপয় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পরিচালিত বিগত ৩০/০৪/২৫ ইং থেকে ২৪/০৬/২৫ ইং পর্যন্ত ৫৬ দিনের অনুষ্ঠিত “LAISE” প্রকল্পের প্রশিক্ষণের বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করে বলে দুদকে অভিযোগকৃত অভিযোগপত্র থেকে জানাযায়।

মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার নবীন শিক্ষকদের যোগ্য শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচী পালন করা হয়। ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৫৬ দিনের এই প্রশিক্ষণে ২৮ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী সহ ৪০ জন প্রশিক্ষনার্থী অংশগ্রহন করে। এবং এই প্রকল্পের বাজেটের অনুলিপি থেকে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ৫৮,১৮,৫০০ টাকা বলে জানাযায়। যেখানে ৫৫,৪৯,৫০০ টাকা প্রশিক্ষণ বাবদ খরচ ও বাকি অব্যয়িত ২,৬৯,০০০ টাকা প্রকল্পের হেড অফিসে ফেরৎ পাঠানো হয়।

প্রশিক্ষনে অংশগ্রহণকৃত শিক্ষকদের বরাদ্দকৃত খাতের আবাসন ভাতা, ব্যাগ ক্রয়, পুস্তক ক্রয়, সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার অর্থাৎ এই ৫ খাত থেকে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে প্রশিক্ষনার্থীগন উল্লেখ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জনপ্রতি প্রতিদিন আবাসন ভাতা বাজেটে ৩০০ টাকা ধার্জ থাকলেও তাদেরকে দেওয়া হয় ১০০ টাকা করে, ব্যাগ ক্রয় বাবদ জনপ্রতি বরাদ্দ ১২০০ টাকা কিন্তু তাদেরকে দেওয়া হয় ৪০০ টাকা মূল্য সমমানের ব্যাগ , জনপ্রতি পুস্তক ক্রয়ের ধার্জকৃত অর্থ ২০০০ টাকা থাকলেও তাদেরকে এই খাতে কোনো টাকাই দেওয়া হয় নাই। সকালের নাস্তায় জনপ্রতি ৫৬০০ টাকার স্থলে দেওয়া হয় ৪০০০ টাকা এবং দুপুর ও রাতের খাবার বাবদ জনপ্রতি ৫৬ দিনে ২৭,০০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তাদেরকে দেওয়া হয় ১২,০০০ টাকা। অর্থাৎ এই ৫ খাতে ৫৬ দিনে ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীর নিকট থেকে সর্বমোট ১৩,৬৬,৩০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

দূর্নীতির মাধ্যমে এই সমস্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক মোঃ সুজা উদ-দৌলাহ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ হাফিজুর রহমান খান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি যেহেতু, সরাসরি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রাপ্য টাকা দুর্নীতি ও প্রতারণাপূর্বক আত্মসাৎ করা হয়েছে তা আদায়পূর্বক ফেরৎ পাওয়া। আত্মসাৎকৃত অন্যান্য টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরৎ। দূর্নীতিবাজ শিক্ষকদের আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করা ও ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে মাধ্যমিক পর্যায়ের এই বেসিক প্রশিক্ষণ যাতে দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালিত হয় সেইমত ব্যবস্থা গ্রহন করা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনকৃত প্রশিক্ষণার্থীগণ জানান, প্রশিক্ষণের ভাতা স্বরুপ বিভিন্ন খাতে তাদের যে টাকা নির্ধারীত ছিল তারা সবই ঠিকমত পেয়েছে। এমনকি তাদের নির্ধারিত অর্থের বেশীর ভাগ খাতের টাকাই তারা নিজ হাতে খরচ করেছে। এবং প্রকল্প বাবদ সরকার নির্ধারিত টাকা থেকে যে টাকা প্রশিক্ষণ শেষে অতিরিক্ত হিসেবে থেকে যায় সেটাও তাদেরকে সমভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। দুইজন বলেন প্রতিষ্ঠান থেকে যেখানে আমাদেরকে প্রকল্প বাবদ বরাদ্দকৃত খরচের তালিকা প্রত্যেকের কাছে দিয়ে দিয়েছে সেখানে দুর্নীতি বা আত্মসাৎ কিভাবে হয়। তখন তারা কেন প্রতিবাদ করেনি। শিক্ষকদের ভিতরের পক্ষ-বিপক্ষ ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারনেই এমনটা হচ্ছে বলেও অনেকে ব্যক্ত করেন। তবে অর্থ আত্মসাতের পক্ষেও কথা বলেন দুই একজন।

টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ তৌফিক আহম্মদ জানান, যদিও আমি প্রথমে ছিলাম না, তবে শেষটা আমার মাধ্যমেই হয় এবং আমি শতভাগ সততার সাথে আমার দায়িত্ব পালন করেছি ও প্রকল্পটি শেষ করেছি। কলেজে চাকুরীরত অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্য সহকারীও আত্মসাতের ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন।

আত্মসাতের তালিকার প্রথম টার্গেট অধ্যাপক সুজা উদ-দৌলাহ বলেন, আমি দীর্ঘ্য দিন এই প্রতিষ্ঠানে সুনামের সহিত আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই অভিযোগ সম্পূর্ন বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কারন উক্ত প্রশিক্ষনের অর্থনৈতীক কোনো দায়িত্বেই যেখানে আমি ছিলাম না সেখানে আমি কিভাবে অর্থ আত্মসাৎ করলাম। আমি কেবলমাত্র একজন ট্রেইনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলাম। তাছাড়া একজন প্রশিক্ষণার্থী সরকার নির্ধারিত বরাদ্দের যে তালিকা সেটা তাদেরকে আমরা প্রথমেই দিয়ে দিয়েছি। যদি কোনো অনিয়ম হতো তাহলে তো তারা তখনই আমাদেরকে প্রটেস্ট করতো।

অভিযোগটির কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখেন আমাদের এখানে ২৫ জন শিক্ষক আছে আর এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পে ১০ জন সুযোগ পেয়েছে, হয়তো এই ঈর্শা থেকেই যারা সুযোগ পায়নি তারা এমনটা ঘটিয়েছে। তবে আরো একটি বিষয় আছে, আমি মুলত সততার সহিত সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করার চেষ্টা করি যেটা অনেকেরই সহ্য হয় না, তাদের এই অন্যায় ও দুর্নীতি করতে না পারাটা, এটাও একটা কারন হতে পারে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.