1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

খুলনায় দুই শিশু ও নানিকে হ/ত্যা, মূল হো’তা’সহ ৩ জন গ্রে’ফ’তা’র

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

 

ক্রাইম রিপোর্টার।।খুলনায় এক নৃশংস পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুলিশের কড়া তৎপরতায় উদঘাটন হয়েছে। একই পরিবারের দুই শিশু—ফাতিহা (৭), মুস্তাকিম (৮)—এবং তাদের নানি মহিতুন্নেছা (৫৩) কে হত্যার মূল হোতা সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে পারিবারিক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ। রক্তের সম্পর্ক যেখানে সুরক্ষার আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে লোভ ও প্রতিহিংসার কাছে হার মানিয়ে তিনটি নিরপরাধ প্রাণ ঝরে গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বাবা শেফার আহম্মেদ এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামী শেখ মোহাম্মদ শামীম আহম্মেদ মামাতো-ফুফাতো ভাই। দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে রুপসার পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, “শামীম এক সময় রুপসা থানার অস্ত্র মামলায় কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকার সময় তিনি একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এই পরিচিত সন্ত্রাসীদের বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষ শেফার আহম্মেদের পরিবার নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন।”

পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শামীম ১৬ নভেম্বর শেফার আহম্মেদের বাড়িতে প্রবেশ করে দুই শিশু ও তাদের নানিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

হত্যার পর থেকে শামীম পলাতক থাকেন এবং গ্রেফতার এড়াতে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন। কেএমপি জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় এবং খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, ট্রিপল মার্ডারের মূল হোতা শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ নম্বর আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

লবণচরা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইউসুফ আলী বলেন, “আমরা আগে থেকেই জানতাম, শামীম যে কোনো মুহূর্তে দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন। তাই তার ছবি সংবলিত তথ্য দেশের সব বর্ডারে পাঠানো হয়। গভীর রাতে ফ্রান্সে যাওয়ার আগে বিমানবন্দর পুলিশের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয় এবং আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”

পুলিশ আরও জানিয়েছে, শামীমের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন আরও দুই ব্যক্তি— তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬), পূর্বে ১টি মাদক মামলায় অভিযুক্ত। তাফসির হাওলাদার (২০), পূর্বে চুরি ও ছিনতাইয়ের দুই মামলায় অভিযুক্ত।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত তিনজন ছাড়াও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের খোঁজে অভিযান চলছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ বলেন, “পরিবারের সম্পত্তি ও লোভের জন্য যে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘাতক হতে পারে। জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে এবং পুলিশের সাথে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা।”

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.