1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

সত্য প্রকাশের সংগ্রাম: সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন?

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

 

সমাজের দর্পণ হিসেবে সাংবাদিকতার ভূমিকা অপরিসীম। একটি রাষ্ট্রে গণমাধ্যমই পারে অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অনেক ক্ষেত্রে যখন কোনো সাংবাদিক সত্য ঘটনা বা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশ করেন, তখন সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রভাবশালী মহল উল্টো সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই আইনি চাপ সৃষ্টি করে। কখনও আইসিটি আইন বা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, আবার কখনও বাস্তবেই মামলা দায়ের করা হয়। ফলে সত্য প্রকাশের পথ হয়ে ওঠে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।এ অবস্থায় সাংবাদিকদের একটি অংশ নীতির পথে অটল থাকলেও, দুঃখজনকভাবে আরেকটি অংশ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আপস করে। তারা হয়তো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকে, অথবা খবরকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে। এর ফলে শুধু সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষুণ্ণ হয় না, বরং সমাজে অন্যায় ও দুর্নীতির বিস্তার আরও বাড়ে।প্রশ্ন হচ্ছে—তাহলে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের করণীয় কী?প্রথমত, সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা ও সততা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তথ্য যাচাই-বাছাই করে, প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশ করলে আইনি চাপ মোকাবিলা করা তুলনামূলক সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত তাদের সাংবাদিকদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো। একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা থাকলে ব্যক্তি সাংবাদিক একা পড়ে যান না।তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের সংগঠিত হওয়া প্রয়োজন। পেশাজীবী সংগঠনগুলো যদি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাহলে অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের জন্য একটি সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি আইনি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও জরুরি, যাতে সাংবাদিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন।চতুর্থত, রাষ্ট্রের দায়িত্বও কম নয়।গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা সরকারের অন্যতম কর্তব্য।আইসিটি আইন বা অন্য কোনো আইন যেন সাংবাদিকদের দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।সবশেষে, সমাজের সচেতন নাগরিকদেরও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি সত্য সংবাদকে সমর্থন করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে,তাহলে সাংবাদিকদের কাজ আরও শক্তিশালী ভিত্তি পায়।সত্যকে থামিয়ে রাখা যায় না—এটি ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে।তবে সেই সত্যকে প্রকাশ করতে হলে প্রয়োজন সাহস, সততা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা।সাংবাদিকদের কলম যদি ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় থাকে, তবে অন্যায় ও জুলুম একসময় নিশ্চিহ্ন হবেই।
শাহবাজ খান
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.