1. admin@khulnarkantho.com : admin :
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগ, পরীমণির আচরণের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি খুলনার শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর” বন্ধ মিল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি খুলনা থেকে নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট আসছেন খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস সিজন-২ এর উদ্বোধনী প্রেস ব্রিফিংয়ে হুইপ রকিবুল ইসলাম খুলনার আদালত পাড়ায় আলোচিত দুই হত্যাকান্ডে চার্জশিট দাখিল এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ মানিকতলা খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবিরের জানাজা শেষে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নেতৃবৃন্দ

শুরু হলো নজরুল বর্ষ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির আলোয় আমাদের চেতনা : শেখ আবু আসলাম বাবু

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

 

নতুন করে শুরু হলো নজরুল বর্ষ। এ উপলক্ষে আবারও স্মরণ করা হচ্ছে আমাদের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে—যিনি কেবল বাংলা সাহিত্যের নন, বিশ্বসাহিত্যেরও এক অনন্য অলরাউন্ডার। আমাদের যাপিত জীবনের বাস্তবতা, মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম, দ্রোহ এবং মুক্তির চেতনায় তাঁর অবদান আজও প্রতিটি পরতে পরতে প্রাসঙ্গিক।১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম।দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করতে না পারলেও সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রায় প্রতিটি শাখায় রেখে গেছেন বিস্ময়কর অবদান। কাব্য, গান, গজল, হামদ-নাত, নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সংগীতে তাঁর সৃষ্টিসম্ভার বাংলা ভাষার অমূল্য সম্পদ। তাঁর এই মহাসমুদ্রসম সৃষ্টি গ্রহণ করে বাঙালি জাতি আজও ঋদ্ধ; এ ঋণ কোনোদিন শোধ হওয়ার নয়।নজরুলের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ২২টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দোলনচাঁপা, সিন্ধু হিল্লোল, সন্ধ্যা প্রভৃতি। শিশু-কিশোরদের জন্য রচনা করেছেন দুটি কাব্যগ্রন্থ—ঝিঙেফুল ও সাত ভাই চম্পা। কাব্যানুবাদের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রুবাইয়্যাত-ই-খৈয়াম, রুবাইয়্যাত-ই-হাফিজ এবং কাব্য আমপারা।উপন্যাস রচনায়ও তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র। তাঁর তিনটি উপন্যাস হলো বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা এবং কুহেলিকা। গল্পগ্রন্থ তিনটি—ব্যথার দান, রিক্তের বেদন ও শিউলি মালা। মোট গল্পসংখ্যা ১৭টি, যার মধ্যে ১৬টিই প্রেমের গল্প হিসেবে পরিচিত।প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুগবানী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, দুর্দিনের যাত্রী এবং রুদ্রমঙ্গল। নাট্যসাহিত্যে তাঁর তিনটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি ঝিলিমিলি, আলেয়া ও মধুমালা। এছাড়া তিনি ১৪টি সংগীতগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। সাংবাদিকতায়ও তাঁর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি নবযুগ, ধূমকেতু, লাঙ্গল এবং দৈনিক নবযুগ পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনায়ও নজরুল রেখে গেছেন স্মরণীয় অবদান।ধ্রুব, গোরা, চৌরঙ্গী ও পাতালপুরী চলচ্চিত্রে তিনি সংগীত পরিচালনা করেন।তাঁর বিপ্লবী সাহিত্যকর্ম ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারকে শঙ্কিত করেছিল। ফলে অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয়শিখা, যুগবানী এবং চন্দ্রবিন্দুসহ একাধিক গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যসংকলন সঞ্চিতা বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন।নজরুলের সাহিত্যজীবনের সূচনাও ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর প্রথম প্রকাশিত গদ্যরচনা ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ ১৯১৯ সালের মে মাসে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুলাই মাসে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’। প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ **‘তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা’**ও প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকায়। ১৯২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক অমর উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে। একই বছর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘যুগবানী’।আনন্দের বিষয়, বিশ্বের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে আজও নজরুলের সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা পরিচিত হচ্ছে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলা সাহিত্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে।

লেখক পরিচিতি,
শেখ আবু আসলাম বাবু,
সাহিত্যিক ও সাংবাদিক”

২০২৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়ায় অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পৈতৃক ভিটা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল সাহিত্য সম্মাননা ও মেডেল লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে খুলনা সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত ‘আমাদের চেতনায় নজরুল’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া তাঁর ‘কবি নজরুল: বহু রূপে বিশ্লেষণে ও মূল্যায়নে’ শীর্ষক প্রবন্ধ ২০০৪ সালে দৈনিক পূর্বাঞ্চল, দৈনিক প্রবাহ এবং দৈনিক অনির্বাণ-এ প্রকাশিত হয়।নজরুল বর্ষের এই প্রারম্ভে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সেই মহাকবিকে, যিনি সাম্য, মানবতা, প্রেম ও বিদ্রোহের বাণী দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত আগামী প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার অফুরন্ত উৎস হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ খুলনার কন্ঠ, কেএন-৩৫৬
Theme Customized By Buzz it ltd.