
বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব নাট্যকার ও প্রহসন রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের যুগ প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ , এ উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও যশোরের সাগরদাড়ী তাঁর জন্মস্থানে মধু মেলার আয়োজন করেছে মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউট ও জেলা প্রশাসন যশোর।জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৮২৪ সাল আর মৃত্যু ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল , মা জানহবী দেবী।১৮৬৬ সালে গেজইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন ১৮৬৭ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায় যোগ দেন কিন্তু আইন ব্যবসায় নাম করতে না পারায় ১৮৭০ সালের জুন মাসে মাসিক এক হাজার টাকা বেতনে হাইকোর্টের অনুবাদক হিসেবে চাকরি করেন, অবশ্য দুই বছর পর আবার ওকালতি শুরু করে এবার তিনি সফল হন।সাহিত্য চর্চা,,১৮৩৩ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজে ভর্তি হন, কলেজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইংরেজি নাট্য বিষয়ক প্রবন্ধ আবৃত্তি করে প্রশংসিত হন।নারী শিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময় মধুসূদন কাব্য চর্চা শুরু করেন তখন তার কবিতা জ্ঞান অন্বেষণ Bengal spectator,literally gleaner Calcutta library gazette, library blossom, comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।মাদ্রাজ থাকাকালীন Timothy pen poem ছদ্ম নামে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive ladie ও Visions of the past প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।শর্মিষ্ঠা ও মায়াকানন তাঁর যুগান্তকারী নাটক, যা বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে নতুন আবহ । বঙ্গভাষা, কপতাক্ষনদ, মেঘনাদবধ তিনি লিখে আমাদেরকে করেছেন ধন্য। সনেট বা অমৃতাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। বাংলা ভাষায় বারোটি গ্রন্থ ও ইংরেজি ভাষায় ৫ টি গ্রন্থের প্রণেতা বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের গর্ব সাহিত্যের বরপুত্র এই মহাকবি।ধর্মান্তরিত,,হিন্দু থেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর পরিবার থেকে ত্যাজ্য , বিদেশে থাকা অবস্থায় তাঁর বাবা তাকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন , তখন কবি অনুবাদকের কাজ , কেরানীর চাকরি, স্কুলের শিক্ষকতা করে সংসার চালাতে শুরু করলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাকে অনেক টাকা পাঠিয়েছেন , তিনি অনেক ঋণগ্রস্ত হওয়ার পরে তা কখনো ফেরত দিতে পারেননি।বিবাহিত জীবন,,,,রেবেকা ও হেনরিএটা খ্রিস্টান এই দুই রমনীকে আগে ও পরে তিনি বিবাহ করেন।উচ্চাভিলাসী ও খামখেয়ালি,,কি ফল হবে তা বিবেচনা না করেই সাধারণত মধুসূদন সিদ্ধান্ত নিতেন, সারা জীবন তিনি এ স্বভাব পরিবর্তন করতে পারেননি । ফ্রান্সের ভার্সাই রাজপ্রাসাদের পেছনে মাইকেল বাসা ভাড়ায় থাকতেন। তার এক ধরনের ছেলে মানুষী অহমিকা এবং অহংকার ছিল, তা সত্ত্বেও তিনি বাধ্যগত বিনয়ী এবং নীতিবাদী।অসুস্থ অতঃপর মৃত্যু,,,,১৮৭৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে আলীপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলা সাহিত্যের যুগ প্রবর্তক এই মহাকবি ২৯ জুন ইন্তেকাল করেন। এর আগে স্ত্রী হেনরিএটা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, কলকাতার লোয়ার সার্কুলার রোডে ক্রিস্টান কবরখানায় বাংলার তথা সারা পৃথিবীর গর্ব মাইকেল মধুসূদনকে সমাধিস্থ করা হয়।মহাকবি মাইকেলের প্রাণস্পর্শী উক্তি,,”মানুষের সংসারে সেই ধন্য,লোকে যাকে ভুলে না গিয়ে সব সময় মনে রাখে কিন্তু আমার তো এমন কোন গুণ নেই যে তোমার কাছে অমর হওয়ার বর চাইবো, তবে তুমি যদি দয়া করে আমার ভুল এবং দোষগুলোকে গুণ ধরে নাও,,,তাহলে হে বরদাতা আমাকে অমর হওয়ার বর দাও,যেখানে মনের স্মৃতির জলে বসন্ত এবং শরতে সবসময় মধুময় পদ্ম ফোটে, সেখানে আমি যেন ফুটে থাকি,,,মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।