উপজেলার পশ্চিম কাটেংগা এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট বা অপরাধ না থাকা সত্ত্বেও ওসি মোশাররফ তাকে আটক করে অর্থ দাবি করেন। টাকা না দিলে নাশকতার মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। কয়েক মাস জেল খেটে বের হওয়ার পরও কোনো বিচার পাননি বলে জানান তিনি।
একই এলাকার ভুক্তভোগী তাজ মাহমুদ বলেন, ওসি মোশাররফ আমাকে তিনটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। কোনো অভিযোগ ছাড়াই থানায় আটকে রেখে মানসিকভাবে হয়রানি করেন।
উপজেলার কাটেংগা এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী সবুজ খান বলেন, থানার ওসি মোশাররফ জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে আমার চরম ক্ষতি করেছে। টাকা নিয়েও সে কাজ করেনি। উল্টোভাবে আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করেছে।সূত্র জানায়, তেরখাদায় যোগদানের আগেও ওসি মোশাররফ রূপসা ও লবণচরায় দায়িত্ব পালনের সময় বিতর্কে জড়ান। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তিনি জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং বিচার-শালিসের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সেসব অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলেও রহস্যজনকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং, এমপি ও প্রভাবশালীদের সুপারিশে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি, যা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, ওসি মোশাররফের সময় থানাকে চাঁদাবাজির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নিরীহ মানুষদের উপর ভয়-ভীতি ও নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বলর্দ্ধনা এলাকার এক বাকপ্রতিবন্ধী সনাতন ধর্মালম্বী গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হলে ওসি মোশাররফ অর্থের বিনিময়ে ধর্ষকদের রক্ষা করেন এবং থানায় মামলা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ছাত্র জনতার চাপে মামলা নিতে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করে।পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ তাকে তেরখাদা থেকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে। চলমান মামলায় গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ওসি মোশাররফ হোসেন বর্তমানে খুলনা জেলার পুলিশের ক্রাইম শাখায় কর্মরত আছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নিরবতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।








