
এসকে রহমান।। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খুলনার মোস্তফার মোড় থেকে কৈয়াবাজার এবং কৈয়াবাজার থেকে রাজবাঁধ কালভার্ট পর্যন্ত সড়ক দুটি। নিম্নমানের বিটুমিন, স্টোনডাস্টের পরিবর্তে বালু, ড্রেনে নিম্নমানের পিভিসি পাইপ ব্যবহার ও যথাযথ ঢাল ব্যবহার করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।এলজিইডি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগর সংলগ্ন খুলনার ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলা অভ্যন্তরের মোস্তফার মোড় থেকে কৈয়াবাজার পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ছয় কিলোমিটার। এর মধ্যে মোস্তফার মোড় থেকে রাজবাঁধ কালভার্ট পর্যন্ত ডুমুরিয়া অংশের দৈর্ঘ্য ৩.৮ কিলোমিটার।সেখান থেকে কৈয়াবাজার পর্যন্ত বটিয়াঘাটা উপজেলা অংশের ২.১ কিলোমিটার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্পের অধীনে মোস্তফার মোড় থেকে ৩.২ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে দরপত্র সম্পন্ন হয়। সাত কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৬ টাকার কাজটি পায় মেসার্স এস আর ট্রেডার্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী কাজটি ২০২৩ সালের আগস্টে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মামলার আসামি হওয়ায় ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সোহেল গাঢাকা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে নিম্নমানের কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গেল নভেম্বরে ৮০ শতাংশ প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিল তুলে নেয়।অন্যদিকে সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই সড়কের ফলইমারি মাদরাসা থেকে রাজবাঁধ কালভার্ট পর্যন্ত ৮০ লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দে ৬০০ মিটার ও রাজবাঁধ কালভার্ট থেকে কৈয়াবাজার পর্যন্ত তিন কোটি টাকা বরাদ্দে ২.১ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার-কার্পেটিং কাজ করে এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।চলতি বছরের মে মাসের দিকে এসব শেষ হয়।কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই এই সড়কের কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সোহেল পলাতক থাকায় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।এলজিইডির ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থান দ্রুত সংস্কার করা হবে।