
ক্রাইম রিপোর্টার।।খুলনায় রূপসা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পুরুষের মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পিবিআইয়ের ধারাবাহিক ছায়া তদন্তে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে নিহতের বন্ধু মো. সোহেল (২৭)–কে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুপুরে লবনচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড এলাকার বড় পল্টনের পূর্ব পাশে রূপসা নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ। মৃতদেহটি পচে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে লবনচরা থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয় এবং আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মৃতদেহটি দাফন করা হয়।
এদিকে, নিখোঁজ ছেলের খোঁজে থানায় আসা সুইটি বেগমের বক্তব্যের সূত্র ধরে পিবিআই খুলনা মৃতদেহের স্থিরচিত্র তাকে দেখায়। ডান হাতের বাহুর ট্যাটুসহ পোশাক ও অবয়ব দেখে তিনি মৃতদেহটিকে তাঁর নিখোঁজ ছেলে হাসিব মৃধা বলে শনাক্ত করেন।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল ও খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা’র নির্দেশনায় এসআই রেজোয়ান ও এসআই সোহানুর রহমান নেতৃত্বে পিবিআই খুলনার চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে তারা জানতে পারে—নিহত হাসিবের বন্ধু মো. সোহেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং তিনি খুলনা সদর থানার একটি চুরির মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
সুইটি বেগম পরে সোহেলকে আসামি করে সদর থানায় হত্যামামলা দায়ের করলে পিবিআই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেয়। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল স্বীকার করেন, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হেলাতলা মোড় থেকে হাসিবকে নিয়ে রূপসা স্ট্যান্ড রোডের নদীর পাশে যায় তারা। আঠা জাতীয় নেশা সেবন নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সোহেল হাসিবকে ঘুষি মারলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে মৃত ভেবে লাশ গোপনের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে আসে সোহেল।
২৭ নভেম্বর আদালতে হাজির করা হলে আসামি মো. সোহেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই খুলনা জানায়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।