আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রাজুকে চিত্রনায়িকা পরীমণির প্রকাশ্যে অপমান ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শাহবাজ খান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া একজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন শাহবাজ খান।তিনি বলেন, ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সাংবাদিক রাজু দুই হাতে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর ডান হাতেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি দৃশ্যমান। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাঁর এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।শাহবাজ খানের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাংবাদিক রাজুর বিরুদ্ধে কাউকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ তাঁর চোখে পড়েনি। অথচ আদালত প্রাঙ্গণে তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান ও অপদস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি একজন সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির পাশাপাশি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাংবাদিক সমাজের একটি অংশের নীরবতা এবং কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুবিধাভিত্তিক অবস্থান এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে সাংবাদিকদের আত্মমর্যাদা ও পেশাগত অধিকারের প্রশ্নে আপস করা উচিত নয়।শাহবাজ খান মনে করেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি জনস্বার্থে তথ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।তাই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন অপমান, হেনস্তা কিংবা অযৌক্তিক চাপের শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।তিনি দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের সব সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক রাজুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাগত স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ রক্ষায় সিনিয়র সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।শাহবাজ খান বলেন, সাংবাদিক রাজুকে হেনস্তার অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রভাব, পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান যেন বিচারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে নীরব থাকার সুযোগ নেই। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সংবাদকর্মীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।বক্তব্যের শেষাংশে শাহবাজ খান সাংবাদিক রাজুর প্রতি কথিত অপমানজনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং সাংবাদিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তব্যদাতা: শাহবাজ খান
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী