স্টাফ রিপোর্টার।।মহৎ পেশা সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ঘরে স্ত্রী নির্যাতন ও পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ উঠেছে এক সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে। ‘বাংলাদেশ সমাচার’ নামক পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ আলমগীর হোসেন কবিরের (৪৮) বিরুদ্ধে তার স্ত্রী নাছরিন আক্তার (৪০) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (খালিশপুর অঞ্চল) একটি যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর সি.আর /২৬ (খালিশপুর)।মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ০৫/০৭/২০২৫ ইং তারিখে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় কনে পক্ষ বরের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থসহ প্রায় ৪/৫ লক্ষ টাকার মালামাল উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করে। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আসামী আলমগীর হোসেন কবির মাদকাসক্ত ও পরনারীতে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন।সর্বশেষ, আসামী বিদেশ যাওয়ার অজুহাতে স্ত্রীর নিকট নতুন করে আরও ৫,০০,০০০/= (পাঁচ লক্ষ) টাকা যৌতুক দাবি করেন। স্ত্রী উক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামী তাকে ফেলে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে গত ৩০/০৫/২০২৬ ইং তারিখে খালিশপুরের বাসভবনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এক আপোষ-মীমাংসার বৈঠক বসে।অভিযোগ উঠেছে, উক্ত বৈঠকেও আসামী আলমগীর হোসেন কবির প্রকাশ্য দিবালোকে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে অনড় থাকেন এবং টাকা না দিলে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে যৌতুক আদায়ের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী নাছরিন আক্তার গত ০২/০৬/২০২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হন এবং ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যুর আবেদন বিবেচনাধীন রেখেছেন।সাংবাদিকতা পেশায় কলঙ্কের দাগ:সমাজ গড়ার কারিগর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার যে মহান ব্রত নিয়ে মানুষ সাংবাদিকতা পেশায় আসে, আলমগীর হোসেন কবিরের মতো ব্যক্তিদের এমন অপকর্মে সেই পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। ‘বাংলাদেশ সমাচার’ পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করে একজন সংবাদকর্মী যদি নিজ স্ত্রীর ওপর যৌতুকের জন্য এমন বর্বর নির্যাতন ও হুমকি প্রদর্শন করেন, তবে তা সমগ্র সাংবাদিক সমাজকে কলঙ্কিত করে" ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন কবিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।