কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিতে খুলনা মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মী স্থান পাননি। যার ফলে খুলনার তৃণমূল যুবনেতা-কর্মীরা চাপা ক্ষোভে ফুঁসছেন। এদিকে যশোর, বরিশাল, রংপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা পদ পেয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ইতোপূর্বে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে খুলনার একাধিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও এবার কোন পদ না পাওয়ায় সবার মুখে কুলুপ পড়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা মহানগর ও জেলা যুবদলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বর্তমানে চরম হতাশা। দীর্ঘদিন পর দল ক্ষমতায় আসায় কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিতে খুলনার কেউ না থাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনার প্রতি সন্তুষ্ট না থাকায় এমনটা হয়েছে। আবার অনেকের দাবি, সব কমিটি খুলনার এক শীর্ষ নেতার আশীর্বাদে হয়। হয়তো কোনো নেতাই সেই নেতার মন জয় করতে না পারায় কমিটিতে কাউকে রাখা হয়নি।এদিকে সম্প্রতি খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করার দাবিতে প্রতিবাদ করেন অনেক ছাত্রনেতা। এই প্রতিবাদের পেছনে যুবদলের কয়েকজনে ইন্ধন থাকায় তারা পদবঞ্চিত হতে পারে। এমনকি ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগর ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার কিছুদিন পরই তাদের প্রতি সন্তুষ্ট না থাকায় কেন্দ্রীয় কমিটি শোকজও করেছিল। ইতোপূর্বে কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিতে স্থান পাওয়ায় সাবেক কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক যুগান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন খুলনার রাজনীতিতে যুবদলের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। হামলা, মামলার শিকার হয়ে যুবদল কখনো দমেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে যুবদলের ভূমিকা ছিল স্মরণীয়। যখন দল ক্ষমতায় ছিল না তখন কেন্দ্রীয় যুবদলে খুলনার অনেকেই স্থান পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের অনেক জেলা ও বিভাগীয় শহরের যুবদলের ইউনিট নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেলেও খুলনার কেউ পদ না পাওয়াটা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং কষ্টকর। এ ঘটনায় নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কেউ মুখে কিছু বলতে পারছেন না। কারণ মহানগর ও জেলা যুবদলের শীর্ষ নেতারা নানান ইস্যুতে বিভাক্ত হয়ে পড়েছেন। তৃণমূলের নেতাদের বিশ্বাস ছিল খুলনার কেউ না কেউ কেন্দ্রীয় যুবদলে থাকবেন। কিন্তু এটা না হওয়ায় তারাও বেশ হতাশ। আশাকরি দল এটি বিবেচনা করবে। মহানগর যুবদলের আহবায়ক আবদুল আজিজ সুমন বলেন, সামনে হয়তো বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তখন খুলনার প্রতিনিধি থাকবে আশাকরি। আমাদেরও প্রত্যাশা ছিল কেন্দ্রীয় কমিটিতে খুলনার কেউ না কেউ প্রতিনিধি থাকবে।জেলা যুবদলের আহবায়ক ইবাদুল হক রুবায়েদ বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে ইতোপূর্বে খুলনার অনেক নেতাই পদ পেয়েছে। এবার কেন কেউ পদ পায়নি সেটা জানি না। এটা কেন্দ্রীয় নেতারাই বলতে পারবেন। মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেল জানান, কেন্দ্রীয় কমিটিতে খুলনার কেউ পদ পাননি কেন এটা কেন্দ্রীয় নেতারা জানেন। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি জানান, কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটি ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা জানতে চেয়েছেন খুলনার কেউ পদ কেন পাননি। এটা আমিও বুঝতে পারিনি, কেন কেউ পদ পাননি। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও ম্যাসেজ দিয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া সম্ভব হয়নি।উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সূত্র যুগান্তর