বিশেষ প্রতিবেদন।।খুলনার ফুলতলা উপজেলার জামিরা রোডে অবস্থিত “চাঁদসী হোমিও চিকিৎসালয়”-কে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন পরিচয় ও উপাধি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং এসব পরিচয়ের আড়ালে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।প্রতিষ্ঠানটির প্রচারপত্রে “প্রভাষক ডাঃ জয়দেব সরকার”, বি.এ.ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা), বি.এইচ.এম.ই.সি, রেজিস্ট্রেশন নং-২৫৩৯১, কনসালটেন্ট হোমিও প্যাথিক এবং গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড (এইচ.এইচ.এম.এস)—এর মতো বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়।তবে অভিযোগ উঠেছে, “প্রভাষক” পরিচয়টি ব্যবহার করে রোগীদের মধ্যে অতিরিক্ত আস্থা তৈরি করা হচ্ছে।স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদমর্যাদা ও পুরস্কারের সত্যতা নিয়ে যথাযথ যাচাই প্রয়োজন।রোগীদের আকৃষ্ট করতে বড় বড় দাবি?প্রচারপত্রে চর্মরোগ, যৌন রোগ, শ্বাসকষ্ট (হাঁপানি), এলার্জি, অর্শ-পাইলস, ভগন্দর এবং মহিলাদের বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষ চিকিৎসার দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ ধরনের ব্যাপক রোগ নিরাময়ের দাবি দেখে অনেক সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন।পরে অনেকে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার অভিযোগ করেন।
‘প্রভাষক’ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন:অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে “প্রভাষক” শব্দটির ব্যবহার।কোনো ব্যক্তি কোথায়, কোন প্রতিষ্ঠানে, কোন পদে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা পেশায় পরিচয় ও যোগ্যতার তথ্য স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগীরা চিকিৎসকের পরিচয়ের ওপর আস্থা রেখেই চিকিৎসা গ্রহণ করেন।প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন সচেতন মহলের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উচিত—চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই করা;“প্রভাষক” পরিচয়ের সত্যতা অনুসন্ধান করা;চিকিৎসা বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত দাবিগুলোর বৈধতা পরীক্ষা করা;রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ থাকলে তদন্ত করা।এবিষয়ে ডাক্তার জয়দেব সরকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন প্রভাষক লেখাটা আমার ভুল হয়েছে আমি এই পোস্টটি ডিলিট করে দিচ্ছি।চিকিৎসা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি সংবেদনশীল বিষয়।তাই কোনো চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, যোগ্যতা ও সেবার দাবি যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেও কারও বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।চাঁদসী হোমিও চিকিৎসালয় ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত।